Showing posts with label Root. Show all posts
Showing posts with label Root. Show all posts

পর্ব ১ - রুট কি? কেন রুট করবেন? ? রুট করলে সুবিধা ও অসুবিধা কি?

বর্তমানে এন্ড্রয়েডের ব্যবহার প্রচুর বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা এন্ড্রয়েডের খুঁটিনাটি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে উঠেছি। এর মধ্যে রুটিং, কাস্টম রম, ফ্রেমওয়ার্ক, পোর্টিং এ কথাগুলো প্রায় শুনে থাকবেন। যেহেতু জিনিসগুলো অনেক প্যাঁচ এবং ছোট খাটো লেখায় বুঝতে অসুবিধা হয় তাই আমি সব একসাথে না বলে আলাদা আলাদা ভাবে তুলে ধরবো। আমরা আজকে রুট এবং এর সাথে সম্পর্কিত সব তথ্য জানার চেষ্টা করবো, ধৈয্য রাখা সত্যি বাঞ্ছনীয় এবং কিছু না বুঝলে অবশ্যই জিজ্ঞেস করে জানার চেষ্টা করবেন।

  • তো, প্রথম কথা হল রুট (Root) কি?

রুট প্রথমে ব্যবহ্রত হয় লিনাক্সে। আপনারা হয়ত জানেন যে এন্ড্রয়েড হল একটি মুক্ত অপারেটিং সিস্টেম এবং এটি লিনাক্সের উপর বেইস করে চলে । অর্থাৎ লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমকে মোবাইলে/স্মার্টফোনে চলার উপযোগী করে বানানো হয় যাকে আমরা এন্ড্রয়েড বলে চিনি এবং এই কাজটি করে গুগল (তাই গুগলের আন্ডারে এন্ড্রয়েড ভার্সনের আপডেট বের হয়, যেহেতু তারাই এটা ডেভেলপ করে)। এখন লিনাক্সে রুট মানে হল এডমিনিস্ট্রেটর টাইপ কিছু, এই এক্সেস থাকলে আপনি সিস্টেমের যে কোন পরিবর্তন/পরিবর্ধন/পরিমার্জন করার পারমিশন পাবেন। যেহেতু এন্ড্রয়েড লিনাক্সের আন্ডাবাচ্চা, সেহেতু কাহিনী একই, আর  আপনি যদি রুট এক্সেস পান তাইলে আপনি সিস্টেমের(মানে অপারেটিং সিস্টেমের কোর ফাইলগুলা সহ)যে কোন পরিবর্তন করতে পারবেন। তারমানে আমরা শিখলাম যে রুট মানে অফিসের বস টাইপ কিছু যার পাওয়ার সবার চেয়ে বেশি এবং এই পাওয়ার দিয়ে আমরা নিজের মত করে ফোনকে চালাবো, ফোন যেমন বলে আমরা তেমন চলবো না!

  • Root করা বা Rooting মানে কি?

আগে বললাম সিস্টেম ফাইল এক্সেস করার পারমিশন পাওয়া, এখন প্রত্যেক ম্যানুফ্যাচারার সিস্টেম পাথ গুলো Read-Only করে দেয় যাতে আপনি ঢুকতে না পারেন(এটা একচুয়ালি সিকিউরিটির জন্য করা হয়, আপনি ভুলভাল গুতাগুতি করে সিস্টেমের কোন ফাইল ডিলিট করে দিলে মোবাইল এর পরের বার অন ই হবে না)। আর রুটিং মানে এই সিস্টেম পাথের এক্সেস ফিরে পাওয়া। মানে Read-Write মুড করতে দেয়া। অনেকটা এইভাবে বললে মনে থাকবে-

-বৎস, তুমি কি স্বজ্ঞানে সিস্টেম এক্সেস পেতে চাও? পরে প্যাচালে পরলে আমার দোষ নাই!

-“জ্বি , কবুল কবুল কবুল।

  • রুট করে লাভ কি? এমনেই তো ভালো আছি !

রুট ছাড়া আপনি ভালো থাকলে কোন সমস্যা নাই। সমস্যা হল আমরা সন্তুষ্ট না, আজিব, আমার মোবাইল আমি যেমন ইচ্ছা তেমন করুম! “Access Denied” বলার তুমি কে হে?
রুট ফিচারিং অনেক এপ্লিকেশন আছে যেগুলো অনেক উপকারী, আবার সেগুলো রুট ছাড়া লে না! যেমনঃ এন্ড্রয়েডে ইন্টারনেট ইউজ এক বিরাট সমস্যা, রাতে অন রেখে সকালে উঠলে ৫০ এমবি গায়েব, নিজে নিজে সব আপডেট হয়ে যায়! তো DroidWall এমন একটি এপ যা দিয়ে আপনি অন্য এপ গুলোর নেট ইউজ রেস্ট্রিক্টেড করে দিতে পারবেন, আপনি যদি শুধু অপেরা মিনি,ইউসি ব্রাউজার চালান তাইলে শুধু এগুলোতে টিক মার্ক দিবেন, বাকি যত এপ আছে কেউ আর নেট এর ও ছুঁইয়ে দেখতে পারবে না! এবং অনেক হাজার হাজার এপ আছে যেগুলো ব্যবহার না করলে আপনার জীবন ষোল আনায় মিছে।
আপনি চাচ্ছেন মোবাইলের লুকটাই পাল্টে ফেলতে, স্ট্যাটাস বার, নেভিগেশন বার, সিস্টেম উইজার ইন্টারফেস সহ সব! আগে রুট করে আসেন। 

মাত্র গেল এপ্লিকেশনের কথা, মনে করেন আপনার মোবাইলের ম্যানুফ্যাচারার (say HTC) আপনার ফোনে 2.3.6 এর বেশি এন্ড্রয়েভ ভার্সনের আপডেট দিচ্ছে না। এখন HTC কেন দিচ্ছে না সেটা নিয়ে বালিশ ভিজাবেন নাকি নিজে কোন পথ খুঁজবেন? জ্বি, এন্ড্রয়েড ভার্সন আপডেট করা যায় কাস্টম রম(এইটা কি পরে বলতেসি) ইন্সটল করে, যার জন্য প্রথম প্রয়োজন Root!আশা করি এবার ব্যাপারটা বুঝা গেসে।কিভাবে, সেটা আস্তে আস্তে পড়লে ক্লিয়ার হয়ে যাবে।
  • মোবাইল কেন রুট করে দেয় না ?

রুট যদি ইম্পরট্যান্ট হয় তাইলে ম্যানুফ্যাচারার-রা কেন রুট করে দেয় না? আবার কেন বলে যে রুট করলে ওয়ারেন্টি দিবে না আর, হু?
আনরুটেড থাকা মানে আপনি সিস্টেমে টাচও করেন নাই, তাই সফটওয়ার ম্যালফাংশন হয়ে পরে না, হলেও আপনার দোষ না, প্রোডাক্ট ছাড়ার সময় যে ফোন ফ্ল্যাশ করিছে তার দোষ। রুট এক্সেস দেয় না কারণ এটা একচুয়ালি সিকিউরিটির জন্য। আপনি ভুলভাল গুতাগুতি করে সিস্টেমের কোন ফাইল ডিলিট করে দিলে মোবাইল বুট হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ফাইল খুঁজে পাবে না আর অন হবে না। আর রুট করতে পারা মানে আপনার সিস্টেম ফাইল সম্পর্কে নূন্যতম ধারণা আছে, বুঝেন যে এগুলা ডিলিট হলে আপনার ফোন অন কবে না, তাই নিশ্চয় আপনি তখন আর কিছু ডিলিট করবেন না।
রুট করে ফেলার পর তো আপনি সিস্টেম ফাইল গুলো নিয়ে রান্নাবাটি খেলতে পারেন, সনির এপ ওয়ালনে দিতে পারেন, সিম্ফোনির অ্যাপ স্যামস্যাং এ দিতে পারেন। তো এর পরের জগাখিচুড়ি যদি অন না হয় এর দায় কেন ম্যানুফ্যাচারার নিবে? রুট করে সিস্টেমের দায়িত্ব নিছেন আপনি তাই অন না হলে দায়িত্ব আপনার।

আজিব, ভয় কেন লাগান, অন হবে না ক্যান?
রুট করার পর একটা কাজ করতে হয় যার নাম কাস্টম রিকভারি ইন্সটল করা। (নাম শুনে থাকবেন, CWM, TWRP) তো রুট করার পরই এগুলো ইন্সটল করে আপনার পুরো সিস্টেমের একটা ব্যাকআপ নেয়া হয়(যাকে বলে স্টম রম ব্যাক আপ)। এখন আপনি কোন ভুল করার ফলে যদি ফোন বুটলুপ (ফোন বারবার অন অফ হতে থাকা) এ পরেন তাইলে রিকভারি মেনুতে গিয়ে ব্যাক আপ নেয়া সিস্টেম টা রিস্টোর করে নিতে পারবেন। যেহেতু আগের সিস্টেম ব্যাকআপে কোন ভুল ছিল না তাই সেটা ইন্সটল করলে ফোন অন হবেই!
  • কাস্টম রম কি ?
আমাদের মোবাইলে একটা চিপসেট থাকে (MEDIATEK, QUALCOMM) যেটা অনেক মোবাইলের একই হয়। মনে করেন, আপনার দুইটা সেটের নাম WALTON PRIMO H2MICROMAX CANVAS HD এবং দুটিই চলে MEDIATEK চিপসেট দিয়ে। কিন্তু ওয়াল্টন বলিছে WALTON PRIMO H2 তে 4.2.1 পর্যন্ত আপডেট দিবে , এরপরে আর দিবে না। কিন্তু মাইক্রোম্যাক্স কইছে MICROMAX CANVAS HD 4.4 এর আপডেট দিব (ধরে নেন, দিবে বলে মনে হয় না)। এখন যেহেতু দুই সেটের চিপসেট একই সেহেতু Canvas HD এর রম কিন্তু H2 তে ব্যবহার করা সম্ভব। Canvas HD এর রম H2 তে চলার উপযোগী করে তোলার উপায়কে Rom Porting বলে। এবং এই ধরনের রম কে বলা হয় কাস্টম রম। আশা করি বুঝছেন কিভাবে কাস্টম রমের মাধ্যমে এন্ড্রয়েড ভার্সন আপডেট করা যায়।
কাস্টম রিকভারীঃ মানে ফোন অন না হলে না বুটলুপে পড়লে পাওয়ার বাটন এবং ভলিউম আপ/ডাউন বাটন চেপে ধরলে একটা মেনু আসে যার না রিকভারি মেনু। এটাতে ফোনের সিস্টেম অন না করেই ঢুকা যায়। এখন কাস্টম রিকভারি মানে এই জায়গায় নতুন একটা রিকভারি ইন্সটল করে দেয়া যেগুলোতে সিস্টেম ব্যাক আপ রিস্টোর করা সহ বিভিন্ন সুবিধা থাকে। এর সাহায্যে আপনি ভুলভাল কিছু করেও ফোন ঠিক করে ফেলতে পারবেন। আরো অনেক অনেক কাজ আছে কাস্টম রিকভারির।
  • রুট করার সুবিধা কি ?
বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে মোবাইলের অব্যবহৃত ফাইল, টেমপোরারি ফাইল ইত্যাদি নিয়মিত মুছে ফোনের গতি ঠিক রাখা। এছাড়াও মোবাইলের পারফরমেন্স বাড়ানো যায় আরও অনেক ভাবে। ওভারক্লকিং করে সিপিইউ স্পিড স্বাভাবিক অবস্থায় যতটা থাকে তারচেয়ে বেশি দ্রুত কাজ করে। এর মাধ্যমে কোনো বিশেষ কাজে প্রসেসরের গতি বাড়ানোর প্রয়োজন পড়লে তা করা যায়। যখন মোবাইল এমনিতেই পড়ে থাকে, তখন সিপিইউ যেন অযথা কাজ না করে যে জন্য এর কাজের ক্ষমতা কমিয়ে আনা যায় আন্ডারক্লকিং করে। এতে করে ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়ানো সম্ভব। এছাড়াও রুট করে কাস্টম রম ইন্সটল করার সুবিধা রয়েছে। অনেক ডেভেলপার বিভিন্ন জনপ্রিয় মোবাইলের জন্য কাস্টম রম তৈরি করে থাকেন। এসব রম ইন্সটল করে আপনি আপনার মোবাইলকে সম্পূর্ণ নতুন একটি সেটের রূপ দিতে পারবেন। আপনি সফটওয়্যার ব্যবহার করে আপনার রাম এর স্পীড বাড়াতে পারবেন , প্রসেসরের স্পীড বাড়াতে পারবেন তবে কোন হার্ডওয়্যার বা অন্যান্য কোন কিছু বাড়াতে পারবেন না। আপনি ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরাকে ১৬ মেগাপিক্সেল করতে পারবেন না। যেই মোবাইলে NFC নেই তাতে তা সংযোগ করতে পারবেন না। রুট শুধু মাত্র আপনার অভ্যন্তরীণ পারফরম্যান্সে কাজে আসবে , বাহ্যিক কোন পরিবর্তন নয় ।
  • রুট করার অসুবিধা কি ?
সর্ব প্রথম মোবাইল রুট করার মাধ্যমে আপনার ওয়ারেন্টি বাতিল হয়ে যাবে। তাই রুট করার আগে সাবধান। অবশ্য অনেক মোবাইল আবার আনরুট করা যায়। আর মোবাইল আনরুট করা হলে তা সার্ভিস সেন্টারে থাকা টেকনিশিয়ানরা অনেক সময়ই ধরতে পারেন না যে সেটটি রুট করা হয়েছিল কি না। তবে কাস্টম রম থাকলে ধরা খাওয়া বাধ্যতামূলক। অনেকে মোবাইল ব্রিক নিয়ে অনেক কথাই বলেছে। এখন কথা হল ব্রিক মানে কি? ব্রিক অর্থ ইট। আর ফোন ব্রিক মানে আপনার ডিভাইসকে ইটে রূপান্তরিত করা বা নষ্ট হয়ে যাওয়া। অর্থাৎ আপনার মোবাইল কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। রুট করা ও এর পরবর্তী বিভিন্ন কাজের সময় যদি কোন ভুল ত্রুটি হয় তাহলে ফোনে স্থায়ী বা অস্থায়ী সমস্যা হতে পারে। প্রস্তুতকারক কোম্পানি ফোনটি আনরুট অবস্থায় দেন যাতে আপনার মোবাইলের কোন ক্ষতি না হয়। রুট করার মাধ্যমে আপনি সেই নিশ্চয়তা ভেঙ্গে ফেলেছেন। এখন এর সম্পূর্ণ দায়ভার আপনাকে গ্রহন করতে হবে। রুট করলে দেখা যায় অনেক সময় অনেক ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম রুট করা ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে। কিন্তু লক থাকা অবস্থায় ব্যবহারকারী নিজেই রুট অ্যাক্সেস পান না, তাই অন্য প্রোগ্রামগুলোর রুট অ্যাক্সেস পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই বললেই চলে।

পরিশেষে যদি কিছু বলতে চাই তাহলে বলব যে কিছু করার আগে ভাল করে জেনে নেওয়া ভাল। রুট আপনি যদি ঠিক মত বুঝে নিতে পারেন তাহলে আপনার কাছে তা খুব এ সহজ আর যদি না পারেন তাহলে তা খুবই কঠিন

আজকে আপনারা জানলেন Root সম্পর্কে ..................... কীভাবে রুট করবেন তা জানতে আমার সাথেই থাকুন ।


আজকে এতটুকু থাক। আশা করি নতুন কিছু শিখলেন।
Read more

অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে ল্যাগ মুক্ত স্পিড আপ করার ৭টি কিলার টিপস

বর্তমানে আমাদের চারপাশে যেদিকেই তাকাই প্রায় সবার হাতেই "অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং" সিস্টেমের স্মার্টফোন দেখতে পাই। এরকম নয় যে অনান্য অপারেটিং সিস্টেমের স্মার্টফোন মানুষ ব্যবহার করেনা তবে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে আধিক্য বেশি।
  
এর প্রধান কারন হচ্ছে "অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং" সিস্টেমের চমৎকার সব স্মার্টফোন যেমন কিনতে অনেক টাকা লাগে ঠিক তেমনি এর লো-এন্ড ফোনগুলোর দামও আবার থেকে যায় হাতের নাগালের মধ্যেই।

তবে, অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের একটি কমন সমস্যা হচ্ছে এটি সময়ের সাথে সাথে কিছুটা ধীর গতির হয়ে যায়। তাই, আজকে আমি কিছু টিপস শেয়ার করব যার সাহায্যে সম্পুর্ন না হলেও আপনার স্মার্টফোনটিকে অনেকাংশেই স্মুথ করে তোলা সম্ভব হবে।

১। আপনার স্মার্ট ফোনটির ফার্মওয়্যার আপডেট করুন :- আপডেটেড ফার্মওয়্যার অনেক ক্ষেত্রেই কিছু ল্যাগের সমস্যা দূর করে থাকে। আপডেট এর অর্থই হচ্ছে আগের তুলনায় নতুন কিছু সুবিধা যোগ করা। আর, ফার্মওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে স্মার্টফোন ছাড়াও প্রতিটি ডিভাইসেরই কম-বেশি ক্যাপাবিলিটি বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। অনেক সময় হয়ত সেই পরিবর্তন আপনার চোখে পরবে না তবে এমন অনেক ত্রুটি মুক্ত করার জন্য স্মার্টফোনের ফার্মওয়্যার আপডেট করা জরুরী।

২। আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি "Reset" করুন :- আমরা সবাই জানি যে "Reset" করার অর্থ হচ্ছে পুনঃস্থাপন করা বা নতুন করে ফেলা’, আর স্মার্টফোনের ক্ষেত্রেও "Reset" অপশনটি ঠিক এর অর্থের মতই কাজ করে। আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে যে আপনি যখন আপনার স্মার্টফোনটি কিনে এনেছিলেন তখন আপনার স্মার্টফোনটির অপারেটিং ছিল ভীষন স্মুথ? কিন্তু ব্যাবহারের সাথে আপনার অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনটির মধ্যে নানা রকম ফাইল জমা পরার কারনে সেই স্মার্টফোনটি হয়ে গিয়েছে ল্যাগি।

সেক্ষেত্রে আপনি আপনার স্মার্ট ফোনটি "Factory Reset" করতে পারেন। ফলে স্মার্ট ফোনটি থেকে সব ফাইল মুছে গিয়ে ঠিক সেই প্রথম কিনে আনার দিনের মত স্মুথ হয়ে যাবে। সব ফাইল বলতে আমি আপনার ব্যবহারের জন্য যে ফাইল গুলো জমা হয়েছিল সেগুলোই বুঝাচ্ছি। কিন্তু এতে করে যেহেতু সিস্টেম ফাইল মুছে যাচ্ছেনা তাই আপনি রিসেট করার পর পাবেন একদম স্মুথ একটি স্মার্টফোন।

সতর্কতা :- "Factory Reset" করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোনের Internal Storage এ থাকা প্রয়োজনীয় Contact, Message, Calender Entry, Memo এবং আপনি যে অ্যাপলিকেশন গুলো ব্যবহার করতেন - সবগুলো মুছে যাবে। তাই, রিসেট করার পূর্বে অবশ্যই প্রয়োজনীয় সব তথ্য গুলো ব্যাক-আপ নিয়ে রাখুন। যদিও, গুগলের অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ফলে কন্টাক্ট এবং ক্যালেন্ডার এন্ট্রি সহ কিছু ক্ষেত্রে ক্ষুদে বার্তাও সিনক্রোনাইজড হয়ে থাকে।

৩। আপনার ফোনের "Internal Storage" চেক করুন :- স্মার্ট ফোনের মেমরীর পরিমান কমে গেলে স্মার্ট ফোনে আপনি ল্যাগ অনুভব করতে পারেন। এজন্য, আপনি মাঝে মাঝে আপনার ইন্টারনাল ফাইলে জমে থাকা Games, Applications, Media Files, ইত্যাদি এক্সটার্নাল স্টোরেজ তথা মেমরী কার্ডে চালান (ট্রান্সফার) করে দিন। তবে, বেশির ভাগ লো-এন্ড স্মার্টফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজের পরিমাণ কম হয়ে থাকে বিধায় এই টিপসটি সেই সব স্মার্ট ফোনে কাজ নাও করতে পারে।

৪। প্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে পারেন :- গুগল প্লে স্টোর থেকে টাস্ক কিলারের মত কিছু প্রয়োজনীয় অ্যাপলিকেশন ইন্সটল করে ব্যবহার করতে পারেন।

 আপনি এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন " Advanced Task Killer " অ্যাপলিকেশনটি। এটি আপনার নির্ধারিত সময় অন্তর অন্তর আপনার নির্ধারিত কিছু অ্যাপলিকেশনের প্রোসেস কিল করে স্মার্ট ফোনের র‍্যাম ফ্রি করতে সাহায্য করবে এবং সাধারণত, বেশি র‍্যাম ফ্রি থাকলে স্মার্ট ফোন দ্রুত অপারেট হবে।

 আপনি Anti Virus এর জন্য " Avast! Mobile Security " Application টি ব্যবহার করতে পারেন। কম্পিউটারের মত স্মার্টফোনও নানা রকম ভাইরাস এবং ম্যালওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে এবং এটি একটি ভালো এন্টিভাইরাস যা সকল ভাইরাস এবং ম্যালওয়্যারকে সনাক্ত করন এবং পরে মুছে ফেলে আপনার স্মার্টফোনটিকে কিছুটা হলেও গতিশীল করবে।

 আপনি " Start Up Manager দিয়ে আপনার ফোন বুট বা রিস্টার্ট হবার সময় নির্ধারন করে দিতে পারবেন যে ঠিক কোন অ্যাপলিকেশন গুলো সক্রিয় হবে আর কোন গুলা নিষ্ক্রিয় থাকবে।

 আপনি Background Application Kill করার জন্য " Juice defender " ব্যাবহার করতে পারেন। এটি অন্যান্য অ্যাপলিকেশন গুলোকে ব্যাকগ্রাউন্ডে অটোমেটিক স্টার্ট হতে না দিয়ে আপনার ফোনের এবং আপনার ফোনের ব্যাটারীকে সাপোর্ট দিয়ে যাবে।

● " Android Assistant " অ্যাপলিকেশনটি মোবাইলের মেমরীতে জমে থাকা বিভিন্ন রকম Cash ফাইল মুছে দিয়ে স্মার্টফোনকে স্মুথ করবে।এবং এর সাহায্যে আপনি আপনার স্মার্ট ফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজে ইন্সটলড থাকা অ্যাপলিকেশনগুলো আপনার ফোনের এক্সটার্নাল মেমরী কার্ডে ট্রান্সফার করতে পারবেন এবং এতে করে Internal Storage ফ্রী হবে, ফলে কিছুটা হলেও স্মার্ট ফোন দ্রুত কাজ করবে। তবে মনে রাখবেন, এটির সাহায্যে সকল প্রকার Application মেমরী কার্ডে Transfer করা সম্ভব হবেনা, কিছু কিছু Application Transfer করার জন্য আপনার ফোনটিকে "Root" করে নিতে হবে।

৫। অপ্রয়োজনীয় Application গুলো মুছে ফেলুন :- আমরা বিভিন্ন সময়ে প্লে স্টোরে ঘুরতে ঘুরতে দেখা যায় অনেক রকম অ্যাপলিকেশন ইন্সটল করি কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই অ্যাপলিকেশন গুলো খুব একটা ব্যবহার করিনা। এরকম অপ্রয়োজনীয় অ্যাপলিকেশন মুছে ফেলা উচিৎ। এতে করে স্মার্টফোনের র‍্যাম ফ্রি থাকবে এবং ফলাফল স্বরূপ আপনার স্মার্ট ফোনটি আগের তুলনায় কিছুটা হলেও ল্যাগ ফ্রি হবে।

৬। স্মার্ট ফোনটি রিস্টার্ট করুন :- আমরা যদি কম্পিউটারে কোন সমস্যায় পরি তাহলে আমরা কম্পিউটার রিস্টার্ট দিয়ে থাকিএতে কিছু ক্ষেত্রে কম্পিউটারের সমস্যা দূর হয়ে যায়। স্মার্ট ফোনের ব্যপারটি একই। যদিও, এই ট্রিকসটি সবসময় কাজ করে না, তবে কিছু ক্ষেত্রে কাজ হতে পারে।

৭। আপনার স্মার্ট ফোনটি রুট করুন :- স্মার্ট ফোন রুট করার ফলে আপনি কিছু অ্যাডিশনাল সুবিধা পাবেন এবং সেই সুবিধা গুলোকে কাজে লাগিয়ে আপনি আপনার স্মার্ট ফোনটি আরও ভালো ভাবে কাজে লাগাতে পারবেন। যদিও এক্ষেত্রে রুটিং প্রোসেসটি এক প্রকারের রিস্কি সমাধানের পর্যায় পরে তবে এখন ইন্টারনেটে বিভিন্ন সাইট এবং ফোরামের কল্যাণে স্মার্ট ফোন রুট করা এখন বলা চলে অনেক সহজ এবং ঝুঁকির পরিমানও ঠিক আগের মত নেই।

ঝুঁকির কথা বললাম কেননা, আপনি যদি রুট করার সময় সফল না হন তবে আপনার স্মার্ট ফোনটি ব্রিক অবস্থায় চলে যেতে পারে। আবার, আপনি সফল ভাবে রুটিং প্রোসেস সম্পন্ন করলেও আপনার স্মার্ট ফোনের সাথে দেয়া ওয়ারেন্টির অফারটা শেষ হয়ে যাবে যদিও এখন আপনি চাইলেই আপনার রুটেড অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসটি আন-রুট করতে পারবেন এবং ওয়ারেন্টি ফিরে পাবেন। এখন বলি যে, একটি অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম চালিত স্মার্ট ফোন স্পিড আপ এর সাথে এই রুটিং এর কী সম্পর্ক।

 ওভার ক্লক :- আপনি আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসটি রুট করার পর ডিভাইসের প্রসেসরটি ওভারক্লক করতে পারবেন এবং একটি ওভার ক্লকড প্রসেসর স্বাভাবিক ভাবেই স্বাভাবিক অবস্থায় থাকা প্রসেসরের তুলনায় বেশি পরিমান কাজ করতে সক্ষম হবে। তাই, প্রসেসর ওভার ক্লক করার মাধ্যমে আপনি এভাবেই আপনার অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনটির গতি বৃদ্ধি করতে পারবেন।

 কাস্টম রমের ব্যবহার :- আপনি আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসটি রুট করার পর ডিভাইসটিতে কাস্টম রম ব্যবহারের সুবিধা পাবেন। যদিও, কাস্টম রম ব্যবহার কিছুটা অ্যাডভান্স লেভেলের পর্যায়ে পরে এবং ঝুঁকি পূর্ন তবুও কাস্টম রম ব্যবহার করে স্মার্ট ফোনের গতি বৃদ্ধি করা যায় খুব সহজেই।

কেননা, কাস্টম রমে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপলিকেশন থাকে না বললেই চলে এবং এর ফলে কোন অ্যাপলিকেশন অহেতুক স্মার্ট ফোনের র‍্যামের রিসোর্স ব্যবহার করেনা এবং এছাড়াও কাস্টম রম ব্যবহারের ফলে স্মার্ট ফোনের কিছু বাগ ফিক্স হয়ে যায়। তবে ঝুঁকির কথা বললাম এজন্যেই যে মাঝে মাঝে কাস্টম রম গুলো স্ট্যাবল হয় না এবং এর ফলে নানা রকম সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে।

 অপ্রোয়োজনীয় System Application মুছে ফেলুন :- প্রতিটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্ট ফোনের স্টক রমে দেখা যায় নানা রকম অ্যাপলিকেশন প্রি-ইন্সটলড করা থাকে যা অনেকেই ব্যবহার করেন না। রুট করার ফলে আপনি যেহেতু আপনার ডিভাইসের অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ক্ষমতা হাতে পাচ্ছেন সে কারনে আপনি চাইলে সিস্টেমে ইন্সটল্ড থাকা অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো মুছে ফেলতে পারবেন ফলে আপনার স্মার্ট ফোনটি কিছুটা হলেও হবে স্মুথ এবং দ্রুত গতির।



সতর্কতা :- সিস্টেম অ্যাপ মুছে ফেলার ক্ষেত্রে অবশ্যই অ্যাপ গুলোর ব্যাক-আপ নিয়ে রাখবেন। এক্ষেত্রে চমৎকার একটি অ্যাপলিকেশন হচ্ছে " Titanium Backup " অ্যাপটি।

বিঃদ্রঃ এখান থেকে Application গুলি Download করতে Application গুলোর উপর Click করুন।

আমাদের Facebook পেজে Like দিলে এরকম পোস্ট পাবেন......Like দিতে এখানে Click করুন

আপনার যেকোনো সমস্যায় Facebook পেজে যোগাযোগ করুন।
Read more

Contact Form

Name

Email *

Message *