Showing posts with label আপডেট. Show all posts
Showing posts with label আপডেট. Show all posts

পর্ব ১ - রুট কি? কেন রুট করবেন? ? রুট করলে সুবিধা ও অসুবিধা কি?

বর্তমানে এন্ড্রয়েডের ব্যবহার প্রচুর বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা এন্ড্রয়েডের খুঁটিনাটি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে উঠেছি। এর মধ্যে রুটিং, কাস্টম রম, ফ্রেমওয়ার্ক, পোর্টিং এ কথাগুলো প্রায় শুনে থাকবেন। যেহেতু জিনিসগুলো অনেক প্যাঁচ এবং ছোট খাটো লেখায় বুঝতে অসুবিধা হয় তাই আমি সব একসাথে না বলে আলাদা আলাদা ভাবে তুলে ধরবো। আমরা আজকে রুট এবং এর সাথে সম্পর্কিত সব তথ্য জানার চেষ্টা করবো, ধৈয্য রাখা সত্যি বাঞ্ছনীয় এবং কিছু না বুঝলে অবশ্যই জিজ্ঞেস করে জানার চেষ্টা করবেন।

  • তো, প্রথম কথা হল রুট (Root) কি?

রুট প্রথমে ব্যবহ্রত হয় লিনাক্সে। আপনারা হয়ত জানেন যে এন্ড্রয়েড হল একটি মুক্ত অপারেটিং সিস্টেম এবং এটি লিনাক্সের উপর বেইস করে চলে । অর্থাৎ লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমকে মোবাইলে/স্মার্টফোনে চলার উপযোগী করে বানানো হয় যাকে আমরা এন্ড্রয়েড বলে চিনি এবং এই কাজটি করে গুগল (তাই গুগলের আন্ডারে এন্ড্রয়েড ভার্সনের আপডেট বের হয়, যেহেতু তারাই এটা ডেভেলপ করে)। এখন লিনাক্সে রুট মানে হল এডমিনিস্ট্রেটর টাইপ কিছু, এই এক্সেস থাকলে আপনি সিস্টেমের যে কোন পরিবর্তন/পরিবর্ধন/পরিমার্জন করার পারমিশন পাবেন। যেহেতু এন্ড্রয়েড লিনাক্সের আন্ডাবাচ্চা, সেহেতু কাহিনী একই, আর  আপনি যদি রুট এক্সেস পান তাইলে আপনি সিস্টেমের(মানে অপারেটিং সিস্টেমের কোর ফাইলগুলা সহ)যে কোন পরিবর্তন করতে পারবেন। তারমানে আমরা শিখলাম যে রুট মানে অফিসের বস টাইপ কিছু যার পাওয়ার সবার চেয়ে বেশি এবং এই পাওয়ার দিয়ে আমরা নিজের মত করে ফোনকে চালাবো, ফোন যেমন বলে আমরা তেমন চলবো না!

  • Root করা বা Rooting মানে কি?

আগে বললাম সিস্টেম ফাইল এক্সেস করার পারমিশন পাওয়া, এখন প্রত্যেক ম্যানুফ্যাচারার সিস্টেম পাথ গুলো Read-Only করে দেয় যাতে আপনি ঢুকতে না পারেন(এটা একচুয়ালি সিকিউরিটির জন্য করা হয়, আপনি ভুলভাল গুতাগুতি করে সিস্টেমের কোন ফাইল ডিলিট করে দিলে মোবাইল এর পরের বার অন ই হবে না)। আর রুটিং মানে এই সিস্টেম পাথের এক্সেস ফিরে পাওয়া। মানে Read-Write মুড করতে দেয়া। অনেকটা এইভাবে বললে মনে থাকবে-

-বৎস, তুমি কি স্বজ্ঞানে সিস্টেম এক্সেস পেতে চাও? পরে প্যাচালে পরলে আমার দোষ নাই!

-“জ্বি , কবুল কবুল কবুল।

  • রুট করে লাভ কি? এমনেই তো ভালো আছি !

রুট ছাড়া আপনি ভালো থাকলে কোন সমস্যা নাই। সমস্যা হল আমরা সন্তুষ্ট না, আজিব, আমার মোবাইল আমি যেমন ইচ্ছা তেমন করুম! “Access Denied” বলার তুমি কে হে?
রুট ফিচারিং অনেক এপ্লিকেশন আছে যেগুলো অনেক উপকারী, আবার সেগুলো রুট ছাড়া লে না! যেমনঃ এন্ড্রয়েডে ইন্টারনেট ইউজ এক বিরাট সমস্যা, রাতে অন রেখে সকালে উঠলে ৫০ এমবি গায়েব, নিজে নিজে সব আপডেট হয়ে যায়! তো DroidWall এমন একটি এপ যা দিয়ে আপনি অন্য এপ গুলোর নেট ইউজ রেস্ট্রিক্টেড করে দিতে পারবেন, আপনি যদি শুধু অপেরা মিনি,ইউসি ব্রাউজার চালান তাইলে শুধু এগুলোতে টিক মার্ক দিবেন, বাকি যত এপ আছে কেউ আর নেট এর ও ছুঁইয়ে দেখতে পারবে না! এবং অনেক হাজার হাজার এপ আছে যেগুলো ব্যবহার না করলে আপনার জীবন ষোল আনায় মিছে।
আপনি চাচ্ছেন মোবাইলের লুকটাই পাল্টে ফেলতে, স্ট্যাটাস বার, নেভিগেশন বার, সিস্টেম উইজার ইন্টারফেস সহ সব! আগে রুট করে আসেন। 

মাত্র গেল এপ্লিকেশনের কথা, মনে করেন আপনার মোবাইলের ম্যানুফ্যাচারার (say HTC) আপনার ফোনে 2.3.6 এর বেশি এন্ড্রয়েভ ভার্সনের আপডেট দিচ্ছে না। এখন HTC কেন দিচ্ছে না সেটা নিয়ে বালিশ ভিজাবেন নাকি নিজে কোন পথ খুঁজবেন? জ্বি, এন্ড্রয়েড ভার্সন আপডেট করা যায় কাস্টম রম(এইটা কি পরে বলতেসি) ইন্সটল করে, যার জন্য প্রথম প্রয়োজন Root!আশা করি এবার ব্যাপারটা বুঝা গেসে।কিভাবে, সেটা আস্তে আস্তে পড়লে ক্লিয়ার হয়ে যাবে।
  • মোবাইল কেন রুট করে দেয় না ?

রুট যদি ইম্পরট্যান্ট হয় তাইলে ম্যানুফ্যাচারার-রা কেন রুট করে দেয় না? আবার কেন বলে যে রুট করলে ওয়ারেন্টি দিবে না আর, হু?
আনরুটেড থাকা মানে আপনি সিস্টেমে টাচও করেন নাই, তাই সফটওয়ার ম্যালফাংশন হয়ে পরে না, হলেও আপনার দোষ না, প্রোডাক্ট ছাড়ার সময় যে ফোন ফ্ল্যাশ করিছে তার দোষ। রুট এক্সেস দেয় না কারণ এটা একচুয়ালি সিকিউরিটির জন্য। আপনি ভুলভাল গুতাগুতি করে সিস্টেমের কোন ফাইল ডিলিট করে দিলে মোবাইল বুট হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ফাইল খুঁজে পাবে না আর অন হবে না। আর রুট করতে পারা মানে আপনার সিস্টেম ফাইল সম্পর্কে নূন্যতম ধারণা আছে, বুঝেন যে এগুলা ডিলিট হলে আপনার ফোন অন কবে না, তাই নিশ্চয় আপনি তখন আর কিছু ডিলিট করবেন না।
রুট করে ফেলার পর তো আপনি সিস্টেম ফাইল গুলো নিয়ে রান্নাবাটি খেলতে পারেন, সনির এপ ওয়ালনে দিতে পারেন, সিম্ফোনির অ্যাপ স্যামস্যাং এ দিতে পারেন। তো এর পরের জগাখিচুড়ি যদি অন না হয় এর দায় কেন ম্যানুফ্যাচারার নিবে? রুট করে সিস্টেমের দায়িত্ব নিছেন আপনি তাই অন না হলে দায়িত্ব আপনার।

আজিব, ভয় কেন লাগান, অন হবে না ক্যান?
রুট করার পর একটা কাজ করতে হয় যার নাম কাস্টম রিকভারি ইন্সটল করা। (নাম শুনে থাকবেন, CWM, TWRP) তো রুট করার পরই এগুলো ইন্সটল করে আপনার পুরো সিস্টেমের একটা ব্যাকআপ নেয়া হয়(যাকে বলে স্টম রম ব্যাক আপ)। এখন আপনি কোন ভুল করার ফলে যদি ফোন বুটলুপ (ফোন বারবার অন অফ হতে থাকা) এ পরেন তাইলে রিকভারি মেনুতে গিয়ে ব্যাক আপ নেয়া সিস্টেম টা রিস্টোর করে নিতে পারবেন। যেহেতু আগের সিস্টেম ব্যাকআপে কোন ভুল ছিল না তাই সেটা ইন্সটল করলে ফোন অন হবেই!
  • কাস্টম রম কি ?
আমাদের মোবাইলে একটা চিপসেট থাকে (MEDIATEK, QUALCOMM) যেটা অনেক মোবাইলের একই হয়। মনে করেন, আপনার দুইটা সেটের নাম WALTON PRIMO H2MICROMAX CANVAS HD এবং দুটিই চলে MEDIATEK চিপসেট দিয়ে। কিন্তু ওয়াল্টন বলিছে WALTON PRIMO H2 তে 4.2.1 পর্যন্ত আপডেট দিবে , এরপরে আর দিবে না। কিন্তু মাইক্রোম্যাক্স কইছে MICROMAX CANVAS HD 4.4 এর আপডেট দিব (ধরে নেন, দিবে বলে মনে হয় না)। এখন যেহেতু দুই সেটের চিপসেট একই সেহেতু Canvas HD এর রম কিন্তু H2 তে ব্যবহার করা সম্ভব। Canvas HD এর রম H2 তে চলার উপযোগী করে তোলার উপায়কে Rom Porting বলে। এবং এই ধরনের রম কে বলা হয় কাস্টম রম। আশা করি বুঝছেন কিভাবে কাস্টম রমের মাধ্যমে এন্ড্রয়েড ভার্সন আপডেট করা যায়।
কাস্টম রিকভারীঃ মানে ফোন অন না হলে না বুটলুপে পড়লে পাওয়ার বাটন এবং ভলিউম আপ/ডাউন বাটন চেপে ধরলে একটা মেনু আসে যার না রিকভারি মেনু। এটাতে ফোনের সিস্টেম অন না করেই ঢুকা যায়। এখন কাস্টম রিকভারি মানে এই জায়গায় নতুন একটা রিকভারি ইন্সটল করে দেয়া যেগুলোতে সিস্টেম ব্যাক আপ রিস্টোর করা সহ বিভিন্ন সুবিধা থাকে। এর সাহায্যে আপনি ভুলভাল কিছু করেও ফোন ঠিক করে ফেলতে পারবেন। আরো অনেক অনেক কাজ আছে কাস্টম রিকভারির।
  • রুট করার সুবিধা কি ?
বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে মোবাইলের অব্যবহৃত ফাইল, টেমপোরারি ফাইল ইত্যাদি নিয়মিত মুছে ফোনের গতি ঠিক রাখা। এছাড়াও মোবাইলের পারফরমেন্স বাড়ানো যায় আরও অনেক ভাবে। ওভারক্লকিং করে সিপিইউ স্পিড স্বাভাবিক অবস্থায় যতটা থাকে তারচেয়ে বেশি দ্রুত কাজ করে। এর মাধ্যমে কোনো বিশেষ কাজে প্রসেসরের গতি বাড়ানোর প্রয়োজন পড়লে তা করা যায়। যখন মোবাইল এমনিতেই পড়ে থাকে, তখন সিপিইউ যেন অযথা কাজ না করে যে জন্য এর কাজের ক্ষমতা কমিয়ে আনা যায় আন্ডারক্লকিং করে। এতে করে ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়ানো সম্ভব। এছাড়াও রুট করে কাস্টম রম ইন্সটল করার সুবিধা রয়েছে। অনেক ডেভেলপার বিভিন্ন জনপ্রিয় মোবাইলের জন্য কাস্টম রম তৈরি করে থাকেন। এসব রম ইন্সটল করে আপনি আপনার মোবাইলকে সম্পূর্ণ নতুন একটি সেটের রূপ দিতে পারবেন। আপনি সফটওয়্যার ব্যবহার করে আপনার রাম এর স্পীড বাড়াতে পারবেন , প্রসেসরের স্পীড বাড়াতে পারবেন তবে কোন হার্ডওয়্যার বা অন্যান্য কোন কিছু বাড়াতে পারবেন না। আপনি ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরাকে ১৬ মেগাপিক্সেল করতে পারবেন না। যেই মোবাইলে NFC নেই তাতে তা সংযোগ করতে পারবেন না। রুট শুধু মাত্র আপনার অভ্যন্তরীণ পারফরম্যান্সে কাজে আসবে , বাহ্যিক কোন পরিবর্তন নয় ।
  • রুট করার অসুবিধা কি ?
সর্ব প্রথম মোবাইল রুট করার মাধ্যমে আপনার ওয়ারেন্টি বাতিল হয়ে যাবে। তাই রুট করার আগে সাবধান। অবশ্য অনেক মোবাইল আবার আনরুট করা যায়। আর মোবাইল আনরুট করা হলে তা সার্ভিস সেন্টারে থাকা টেকনিশিয়ানরা অনেক সময়ই ধরতে পারেন না যে সেটটি রুট করা হয়েছিল কি না। তবে কাস্টম রম থাকলে ধরা খাওয়া বাধ্যতামূলক। অনেকে মোবাইল ব্রিক নিয়ে অনেক কথাই বলেছে। এখন কথা হল ব্রিক মানে কি? ব্রিক অর্থ ইট। আর ফোন ব্রিক মানে আপনার ডিভাইসকে ইটে রূপান্তরিত করা বা নষ্ট হয়ে যাওয়া। অর্থাৎ আপনার মোবাইল কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। রুট করা ও এর পরবর্তী বিভিন্ন কাজের সময় যদি কোন ভুল ত্রুটি হয় তাহলে ফোনে স্থায়ী বা অস্থায়ী সমস্যা হতে পারে। প্রস্তুতকারক কোম্পানি ফোনটি আনরুট অবস্থায় দেন যাতে আপনার মোবাইলের কোন ক্ষতি না হয়। রুট করার মাধ্যমে আপনি সেই নিশ্চয়তা ভেঙ্গে ফেলেছেন। এখন এর সম্পূর্ণ দায়ভার আপনাকে গ্রহন করতে হবে। রুট করলে দেখা যায় অনেক সময় অনেক ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম রুট করা ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে। কিন্তু লক থাকা অবস্থায় ব্যবহারকারী নিজেই রুট অ্যাক্সেস পান না, তাই অন্য প্রোগ্রামগুলোর রুট অ্যাক্সেস পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই বললেই চলে।

পরিশেষে যদি কিছু বলতে চাই তাহলে বলব যে কিছু করার আগে ভাল করে জেনে নেওয়া ভাল। রুট আপনি যদি ঠিক মত বুঝে নিতে পারেন তাহলে আপনার কাছে তা খুব এ সহজ আর যদি না পারেন তাহলে তা খুবই কঠিন

আজকে আপনারা জানলেন Root সম্পর্কে ..................... কীভাবে রুট করবেন তা জানতে আমার সাথেই থাকুন ।


আজকে এতটুকু থাক। আশা করি নতুন কিছু শিখলেন।
Read more

নতুন অ্যান্ড্রয়েড কেনার পর যে জিনিসগুলো একান্তই জানা প্রয়োজন


অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে আমরা অনেকেই স্বপ্ন মনে করি। সারা বিশ্ব প্রযুক্তিতে দ্রুত
এগিয়ে চলার অন্যতম কারন এই এন্ড্রোয়েড স্মার্টফোন। আপনি যাহা  চান তাহাই আছে এতে। জিপিএস-এর মাধ্যমে নিজের অবস্থান দেখতে পারবেন , ছবি তুলে ফেসবুকে শেয়ার করতে পারবেন, বিভিন্ন মজার অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে পারবেন কিংবা হাই-ডেফিনিশন এর গেম খেলতে পারবেন। এ সবই সম্ভব এই যাদুর অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে। কিন্তু নতুন অ্যান্ড্রয়েড ফোন কেনার পর অনেকেই বুঝতে পারেন না কীভাবে কী করবেন।
তাই আপনি যদি নতুন অ্যান্ড্রয়েড ফোন কিনে থাকেন, তাহলে এই পোস্টটি আপনারই জন্য । 
এখানে আমি অ্যান্ড্রয়েড ফোন কেনার পর যে বিষয় সম্পর্কে জানাব্‌,,,,, তা আপনার জানা একান্তই প্রয়োজন । 

গুগল অ্যাকাউন্ট :-
প্রতিটি অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের প্রধান কাজ হচ্ছে গুগল অ্যাকাউন্ট যোগ করা। আপনি গুগল অ্যাকাউন্ট যোগ করতে বাধ্য নন। তবে গুগল অ্যাকাউন্ট সেট আপ না করলে আপনি অ্যান্ড্রয়েডের আসল অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হবেন। তাই আপনার জিমেইল/গুগল অ্যাকাউন্টটি প্রথমেই যোগ করে নিতে ভুলবেন না। গুগল সার্ভারে ব্যাকআপ প্রতিটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনের বেসিক সেটিংসগুলো বিনামূল্যেই গুগলের সার্ভারে ব্যাকআপ রাখার অপশন রয়েছে। এর মাধ্যমে সাধারণ সেটিংসগুলো আপনার গুগল অ্যাকাউন্টে সিংক্রোনাইজ হয়ে যাবে। এই সুবিধাটি ফ্যাক্টরি রিসেট দিলে কাজে আসে। আর গুগল অ্যাকাউন্ট যোগ করার কাজ সম্পন্ন হলে পরের স্ক্রিনেই এই চেকবক্সটি পাবেন। এটি টিক দেয়ায় আপনার জন্য সুবিধাজনক হবে।

অটোমেটিক আপডেট  :-
অ্যান্ড্রয়েড কেনার কিছুক্ষনের মধ্যে নিশ্চয়ই অনেক অ্যাপ্লিকেশন install করেছেন? কিন্তু ইন্সটল করার সময় আপনি কি “Allow automatic updating” চেকবক্সটিতে টিক দিয়েছেন্নিয়াপ্নি যদি এই চেকবক্সটিতে টিক দেন তাহলে কোনো অ্যাপ্লিকেশন  আপডেট পাওয়ামাত্রই তা আপডেট হয়ে যাবে। ফলে আপনি সবসময়ই থাকবে সর্বশেষ সংস্করণে। ইন্টারনেট নিয়ে অসুবিধা না থাকলে এই সুবিধা চালু করে রাখাই শ্রেয়।
গুগল ম্যাপস  :-

অফলাইন জিপিএস পরীক্ষা করার জন্যও মনে হয় এতক্ষণে গুগল ম্যাপস চালু করেছেন । তবে কেমন হবে যদি আপনি গুগল ম্যাপস দেখে কোনো বন্ধুর বাসা কিংবা রেস্তোরাঁ খুঁজতে বের হন কিন্তু মাঝ পথে ইন্টারনেট সংযোগ চলে যায়? খুবই খারাপ একটা ব্যাপার। এমন যদি হয় রেস্তোরাঁটি কোনো বন- জঙ্গলে অবস্থিত ! আপনার এমন পরিস্থিতির কথা কিন্তু
আগে থেকেই ভেবে রেখেছে গুগল। আর তাই তাদের ম্যাপস অ্যাপ্লিকেশনে রয়েছে অফলাইন সুবিধা। এ জন্য প্রথম ওয়াই-ফাই-এ সংযুক্ত হোন এবং যেই এলাকায় কিছু খুঁজছেন সেই এলাকার ম্যাপ (একটু উপর থেকে) স্ক্রিনে আনুন। তারপর নিচের ডানদিকের মেনুতে ট্যাপ করে Make available offline লেখায় ক্লিক করলে গুগল স্ক্রিনে প্রদর্শিত এলাকার বিস্তারিত ডেটা ডাউনলোড করে রাখবে। ফলে খোঁজাখুজির সময় লোডিং বা ইন্টারনেট ছাড়াই স্ট্রিট লেভেল ম্যাপ দেখতে পাবেন গুগল ম্যাপসে।সোশাল নেটওয়ার্কিং অ্যাকাউন্ট সেটিংস থেকে আপনি আরও বিভিন্ন সোশাল নেটওয়ার্কিং-এর অ্যাকাউন্ট যোগ করতে পারবেন।লাভ? দুই ধরনের। প্রথমটি হচ্ছে এসব নেটওয়ার্ক থেকে পুশ নোটিফিকেশন পেতে পারবেন। যেমন টুইটারে কেউ মেনশন করলে বা ফেসবুকে কেউ মেসেজ পাঠালে স্ট্যাটাসবারেই সেটা দেখাবে। অবশ্য আপনি চাইলে এগুলো বন্ধও করে রাখতে পারবেন।
শেয়ার করুন সবখানে  :-
অ্যাকাউন্ট যোগ করার ফলে আপনি যে কোনো ছবি বা ভিডিও গ্যালারি থেকেই সরাসরি সেই অ্যাকাউন্টে শেয়ার করতে পারবেন। দ্রুত ছবি শেয়ার করার ক্ষেত্রে এটি বেশ কাজের। তবে এভাবে অ্যাকাউন্ট যোগ না করেও যেই অ্যাকাউন্ট যোগ করবেন তাদের অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করলেও হবে। যেমন ইন্সট্যাগ্রাম ইন্সটল করলে এই শেয়ার মেনুতে ইন্সট্যাগ্রামও চলে আসবে। 

উইজেট ও শর্টকাট :-
উইজেটকে সহজভাবে বলা যায় মূল অ্যাপ্লিকেশনের ছোট সংস্করণ যেটি আপনার হোমস্ক্রিনে থাকে ও বিভিন্ন বিষয়ে লাইভ আপডেট দিয়ে থাকে। যেমন আবহাওয়ার উইজেট দেবে আবহাওয়া সংক্রান্ত লাইভ আপডেট। ঘড়ির উইজেট দেবে সময় সংক্রান্ত খবর। সিস্টেম অ্যাপ্লিকেশনের উইজেট দেবে হার্ডওয়্যারের বিভিন্ন তথ্য ইত্যাদি। এসব উইজেট বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মূল অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটলের সঙ্গেই চলে আসে। আপনি অ্যান্ড্রয়েড ২.৩ জিঞ্জারব্রেডে home screen এ লম্বা সময় প্রেস করে ও অ্যান্ড্রয়েড ৪ আইসক্রিম স্যান্ডউইচে অ্যাপ্লিকেশন ড্রয়ারের উইজেট অপশন থেকে আপনার ডিভাইসে সহজলভ্য উইজেটগুলো হোমস্ক্রিনে যোগ করতে পারবেন। অন্যদিকে অ্যাপ্লিকেশন শর্টকাট হচ্ছে অনেকটা কম্পিউটারের ডেস্কটপ আইকনের মতো। এর মাধ্যমে আপনি হোমস্ক্রিন থেকেই মূল অ্যাপ্লিকেশনে যেতে পারবেন। সেটিংস কন্ট্রোলার উইজেট বেশিরভাগ অ্যান্ড্রয়েডেই উপরের ছবির মতো একটি উইজেট থাকে যেটি হোমস্ক্রিন থেকেই আপনাকে ডিভাইসের বিভিন্ন সেন্সর ও নেটওয়ার্ক কানেক্টিভিটি অন/অফ করার সুবিধা দিয়ে থাকে। এটি অনেক কাজে আসে ও সময় বাঁচায়। এই উইজেটটি খুঁজে বের করুন ও হোমস্ক্রিনে যোগ করুন।

শর্টকাট রিমুভ :-
কোনো অ্যাপ্লিকেশন শর্টকাট মুছে ফেলতে চাচ্ছেন কিন্তু উপায় পাচ্ছেন না? সেই আইকনটির উপর প্রেস করে কিছুক্ষন ধরে রাখুন, দেখবেন স্ক্রিনের উপরে বা নিচে Remove লেখা উঠেছে। আইকনটি সেখানে ড্র্যাগ করে নিলেই সেটি স্ক্রিন থেকে বিদায় নেবে। হোম ফোল্ডার হোমস্ক্রিনে অতিরিক্ত শর্টকাট আইকন হয়েছে? আপনি আপনার ইচ্ছা মত এক জাতীয় Apps গুলোর আইকন একটি ফোল্ডারে ঢুকিয়ে রাখতে পারেন। এ জন্য একটি আইকন অপর আরেকটি আইকনের উপর ড্র্যাগ করে ছেড়ে দিন। নতুন ফোল্ডার তৈরির ডায়ালগ বক্স আসবে। এরপর থেকে যে কোনো আইকন ঐ ফোল্ডারের উপর ছেড়ে দিলে ফোল্ডারেই ঢুকে যাবে সেই অ্যাপ্লিকেশনের শর্টকাট আইকন। 
অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করা  :-
আমরা সবাই কমবেশি Google Play ছাড়া অন্যত্র থেকে অ্যাপ্লিকেশন বা গেমস ডাউনলোড করে রাখি। যদিও এটি পুরোপুরি নিরাপদ না (দেখুনঃ ঝুঁকিতে রয়েছে এক্সিনস কার্নেলের স্যামসাং ডিভাইস)। 
Google Play Store ব্যতীত অন্য স্থান থেকে ডাউনলোড করা অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করতে হলে সেটিংস থেকে অবশ্যই Unknown Sources চেকবক্সটিতে টিক দিতে হবে। নইলে অ্যান্ড্রয়েডের সিকিউরিটি পলিসি আপনাকে কোনোভাবেই অ্যাপ্লিকেশনটি ইন্সটল করতে দেবে না। এই অপশনটি সেটিংসের সিকিউরিটি মেনুতে খুঁজে পাবেন।
ভয়েস অ্যাসিসট্যান্স  :-

নতুন অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণগুলোয় Google Now নামের একটি সুবিধা রয়েছে যেটি অনেকটা আইফোনের সিরির মতো। এটি এক প্রকার ভয়েস অ্যাসিসট্যান্ট। এর মাধ্যমে আপনি কাউকে Call করা, SMS পাঠানো, Google এ খোঁজ করা, Google Maps এ ডিরেকশন খোঁজ করা ইত্যাদি ডিভাইসের প্রায় সব কাজ নিমিষেই করতে পারবেন কেবল ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে। তবে গুগল নাও-এর ভয়েস রিকগনিশন সাধারণত পারফেক্ট উচ্চারণের ইংরেজি ছাড়া বুঝতে পারে না। কাজেই, আপনার কথা না বুঝলে রাগ করার কিছু নেই!
তবে গুগল ম্যাপসে খোঁজাখুজির ক্ষেত্রে Google Now বাংলাদেশে কাজ নাও করতে পারে।
মাল্টিটাস্কিং  :-
উইন্ডোজে নিশ্চয়ই Alt+Tab প্রচুর চাপা হয়। অ্যান্ড্রয়েডে সেটা না পেলেও একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ্লিকেশন চালু রাখার সুবিধা কিন্তু রয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড ৪ বা আইসক্রিম স্যান্ডউইচ ও এর পরের সংস্করণগুলোয় যে কোনো চলমান অ্যাপ্লিকেশন থেকে হোম আইকনে প্রেস করার মাধ্যমে অ্যাপ্লিকেশনটি বন্ধ না করেও হোমস্ক্রিনে যেতে পারবেন। আর দু’টি অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে সুইচ করতে দু’টি বক্সের ছবি সম্বলিত আইকনে প্রেস করলেই সাম্প্রতিক ও ব্যাকগ্রাউন্ডে চলমান অ্যাপ্লিকেশনগুলোর তালিকা দেখতে পাবেন।নোটিফিকেশন পুল-ডাউন মেনু  :-
অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের উপরের দিক থেকে নিচের দিকে সোয়াইপ করলে নেমে আসবে নোটিফিকেশন পুল-ডাউন মেনু। এখানে আপনি বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের নোটিফিকেশন, Missed Call, Unread SMS ইত্যাদি সব দেখতে পাবেন। আইসক্রিম স্যান্ডউইচ ব্যবহারকারীরা এখান থেকে সরাসরি সেটিংসেও যেতে পারবেন। আর কোনো নোটিফিকেশন মুছে ফেলতে চাইলে তা টাচ করে ডান দিকে বা বামদিকে সোয়াইপ করলেই হবে।
প্লে স্টোর/গুগল অ্যাকাউন্ট  :-

প্লে স্টোর/গুগল অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারছেন না? অনেকেই অভিযোগ করছেন তারা গুগল অ্যাকাউন্ট যোগ করতে পারছেন না বা প্লে স্টোরে ঢুকতে পারছেন না। বলা বাহুল্য, এই সমস্যাটি বাংলাদেশ সরকারের ইউটিউব ব্লক করে দেয়ারই ফল। গুগলের বিভিন্ন সেবা ইউটিউবের আইপি ব্যবহার করে বলেই এই সমস্যা পোহাতে হচ্ছে আমাদের। আপনি দু’ভাবে প্লে স্টোরে ঢুকতে বা গুগল অ্যাকাউন্ট যোগ করতে পারেন। যদি মোবাইলে গ্রামীণফোন বা অন্য কোনো সিমের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন তাহলে সুপারফ্রিভিপিএন - এর মাধ্যমে অথবা রুট করা ডিভাইসে হটস্পটশিল্ডm ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপনার ডিভাইসের কোনো সমস্যা নয়। কাজেই, নতুন অ্যান্ড্রয়েড নষ্ট এমন মনে করার কোনো কারণ নেই।
শেষ কথা 
আপনার অ্যান্ড্রয়েড হচ্ছে আপনার স্মার্টফোন। এখানে প্রতিনিয়তই নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করতে পারবেন। নতুন অ্যান্ড্রয়েড হলে তো কথাই নেই। আর অ্যান্ড্রয়েডের আওতা এতোই বিশাল যে আপনি জানতে চাইলে এর জানার কোনো শেষ নেই। কাস্টম রম, কার্নেল, রুট ইত্যাদি অনেককিছু জড়িয়ে আছে অ্যান্ড্রয়েডের জগতকে ঘিরে।

তবে নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য রুট কী এবং এর সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে পড়ের POST এ লেখা হবে ।


আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি।। সবাই ভালো থাকবেন।।


কারো কোনো প্রশ্ন থাকলে করতে পারেন Facebook এ আমি .
Read more

Contact Form

Name

Email *

Message *