অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে ল্যাগ মুক্ত স্পিড আপ করার ৭টি কিলার টিপস

বর্তমানে আমাদের চারপাশে যেদিকেই তাকাই প্রায় সবার হাতেই "অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং" সিস্টেমের স্মার্টফোন দেখতে পাই। এরকম নয় যে অনান্য অপারেটিং সিস্টেমের স্মার্টফোন মানুষ ব্যবহার করেনা তবে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে আধিক্য বেশি।
  
এর প্রধান কারন হচ্ছে "অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং" সিস্টেমের চমৎকার সব স্মার্টফোন যেমন কিনতে অনেক টাকা লাগে ঠিক তেমনি এর লো-এন্ড ফোনগুলোর দামও আবার থেকে যায় হাতের নাগালের মধ্যেই।

তবে, অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের একটি কমন সমস্যা হচ্ছে এটি সময়ের সাথে সাথে কিছুটা ধীর গতির হয়ে যায়। তাই, আজকে আমি কিছু টিপস শেয়ার করব যার সাহায্যে সম্পুর্ন না হলেও আপনার স্মার্টফোনটিকে অনেকাংশেই স্মুথ করে তোলা সম্ভব হবে।

১। আপনার স্মার্ট ফোনটির ফার্মওয়্যার আপডেট করুন :- আপডেটেড ফার্মওয়্যার অনেক ক্ষেত্রেই কিছু ল্যাগের সমস্যা দূর করে থাকে। আপডেট এর অর্থই হচ্ছে আগের তুলনায় নতুন কিছু সুবিধা যোগ করা। আর, ফার্মওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে স্মার্টফোন ছাড়াও প্রতিটি ডিভাইসেরই কম-বেশি ক্যাপাবিলিটি বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। অনেক সময় হয়ত সেই পরিবর্তন আপনার চোখে পরবে না তবে এমন অনেক ত্রুটি মুক্ত করার জন্য স্মার্টফোনের ফার্মওয়্যার আপডেট করা জরুরী।

২। আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি "Reset" করুন :- আমরা সবাই জানি যে "Reset" করার অর্থ হচ্ছে পুনঃস্থাপন করা বা নতুন করে ফেলা’, আর স্মার্টফোনের ক্ষেত্রেও "Reset" অপশনটি ঠিক এর অর্থের মতই কাজ করে। আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে যে আপনি যখন আপনার স্মার্টফোনটি কিনে এনেছিলেন তখন আপনার স্মার্টফোনটির অপারেটিং ছিল ভীষন স্মুথ? কিন্তু ব্যাবহারের সাথে আপনার অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনটির মধ্যে নানা রকম ফাইল জমা পরার কারনে সেই স্মার্টফোনটি হয়ে গিয়েছে ল্যাগি।

সেক্ষেত্রে আপনি আপনার স্মার্ট ফোনটি "Factory Reset" করতে পারেন। ফলে স্মার্ট ফোনটি থেকে সব ফাইল মুছে গিয়ে ঠিক সেই প্রথম কিনে আনার দিনের মত স্মুথ হয়ে যাবে। সব ফাইল বলতে আমি আপনার ব্যবহারের জন্য যে ফাইল গুলো জমা হয়েছিল সেগুলোই বুঝাচ্ছি। কিন্তু এতে করে যেহেতু সিস্টেম ফাইল মুছে যাচ্ছেনা তাই আপনি রিসেট করার পর পাবেন একদম স্মুথ একটি স্মার্টফোন।

সতর্কতা :- "Factory Reset" করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোনের Internal Storage এ থাকা প্রয়োজনীয় Contact, Message, Calender Entry, Memo এবং আপনি যে অ্যাপলিকেশন গুলো ব্যবহার করতেন - সবগুলো মুছে যাবে। তাই, রিসেট করার পূর্বে অবশ্যই প্রয়োজনীয় সব তথ্য গুলো ব্যাক-আপ নিয়ে রাখুন। যদিও, গুগলের অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ফলে কন্টাক্ট এবং ক্যালেন্ডার এন্ট্রি সহ কিছু ক্ষেত্রে ক্ষুদে বার্তাও সিনক্রোনাইজড হয়ে থাকে।

৩। আপনার ফোনের "Internal Storage" চেক করুন :- স্মার্ট ফোনের মেমরীর পরিমান কমে গেলে স্মার্ট ফোনে আপনি ল্যাগ অনুভব করতে পারেন। এজন্য, আপনি মাঝে মাঝে আপনার ইন্টারনাল ফাইলে জমে থাকা Games, Applications, Media Files, ইত্যাদি এক্সটার্নাল স্টোরেজ তথা মেমরী কার্ডে চালান (ট্রান্সফার) করে দিন। তবে, বেশির ভাগ লো-এন্ড স্মার্টফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজের পরিমাণ কম হয়ে থাকে বিধায় এই টিপসটি সেই সব স্মার্ট ফোনে কাজ নাও করতে পারে।

৪। প্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে পারেন :- গুগল প্লে স্টোর থেকে টাস্ক কিলারের মত কিছু প্রয়োজনীয় অ্যাপলিকেশন ইন্সটল করে ব্যবহার করতে পারেন।

 আপনি এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন " Advanced Task Killer " অ্যাপলিকেশনটি। এটি আপনার নির্ধারিত সময় অন্তর অন্তর আপনার নির্ধারিত কিছু অ্যাপলিকেশনের প্রোসেস কিল করে স্মার্ট ফোনের র‍্যাম ফ্রি করতে সাহায্য করবে এবং সাধারণত, বেশি র‍্যাম ফ্রি থাকলে স্মার্ট ফোন দ্রুত অপারেট হবে।

 আপনি Anti Virus এর জন্য " Avast! Mobile Security " Application টি ব্যবহার করতে পারেন। কম্পিউটারের মত স্মার্টফোনও নানা রকম ভাইরাস এবং ম্যালওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে এবং এটি একটি ভালো এন্টিভাইরাস যা সকল ভাইরাস এবং ম্যালওয়্যারকে সনাক্ত করন এবং পরে মুছে ফেলে আপনার স্মার্টফোনটিকে কিছুটা হলেও গতিশীল করবে।

 আপনি " Start Up Manager দিয়ে আপনার ফোন বুট বা রিস্টার্ট হবার সময় নির্ধারন করে দিতে পারবেন যে ঠিক কোন অ্যাপলিকেশন গুলো সক্রিয় হবে আর কোন গুলা নিষ্ক্রিয় থাকবে।

 আপনি Background Application Kill করার জন্য " Juice defender " ব্যাবহার করতে পারেন। এটি অন্যান্য অ্যাপলিকেশন গুলোকে ব্যাকগ্রাউন্ডে অটোমেটিক স্টার্ট হতে না দিয়ে আপনার ফোনের এবং আপনার ফোনের ব্যাটারীকে সাপোর্ট দিয়ে যাবে।

● " Android Assistant " অ্যাপলিকেশনটি মোবাইলের মেমরীতে জমে থাকা বিভিন্ন রকম Cash ফাইল মুছে দিয়ে স্মার্টফোনকে স্মুথ করবে।এবং এর সাহায্যে আপনি আপনার স্মার্ট ফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজে ইন্সটলড থাকা অ্যাপলিকেশনগুলো আপনার ফোনের এক্সটার্নাল মেমরী কার্ডে ট্রান্সফার করতে পারবেন এবং এতে করে Internal Storage ফ্রী হবে, ফলে কিছুটা হলেও স্মার্ট ফোন দ্রুত কাজ করবে। তবে মনে রাখবেন, এটির সাহায্যে সকল প্রকার Application মেমরী কার্ডে Transfer করা সম্ভব হবেনা, কিছু কিছু Application Transfer করার জন্য আপনার ফোনটিকে "Root" করে নিতে হবে।

৫। অপ্রয়োজনীয় Application গুলো মুছে ফেলুন :- আমরা বিভিন্ন সময়ে প্লে স্টোরে ঘুরতে ঘুরতে দেখা যায় অনেক রকম অ্যাপলিকেশন ইন্সটল করি কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই অ্যাপলিকেশন গুলো খুব একটা ব্যবহার করিনা। এরকম অপ্রয়োজনীয় অ্যাপলিকেশন মুছে ফেলা উচিৎ। এতে করে স্মার্টফোনের র‍্যাম ফ্রি থাকবে এবং ফলাফল স্বরূপ আপনার স্মার্ট ফোনটি আগের তুলনায় কিছুটা হলেও ল্যাগ ফ্রি হবে।

৬। স্মার্ট ফোনটি রিস্টার্ট করুন :- আমরা যদি কম্পিউটারে কোন সমস্যায় পরি তাহলে আমরা কম্পিউটার রিস্টার্ট দিয়ে থাকিএতে কিছু ক্ষেত্রে কম্পিউটারের সমস্যা দূর হয়ে যায়। স্মার্ট ফোনের ব্যপারটি একই। যদিও, এই ট্রিকসটি সবসময় কাজ করে না, তবে কিছু ক্ষেত্রে কাজ হতে পারে।

৭। আপনার স্মার্ট ফোনটি রুট করুন :- স্মার্ট ফোন রুট করার ফলে আপনি কিছু অ্যাডিশনাল সুবিধা পাবেন এবং সেই সুবিধা গুলোকে কাজে লাগিয়ে আপনি আপনার স্মার্ট ফোনটি আরও ভালো ভাবে কাজে লাগাতে পারবেন। যদিও এক্ষেত্রে রুটিং প্রোসেসটি এক প্রকারের রিস্কি সমাধানের পর্যায় পরে তবে এখন ইন্টারনেটে বিভিন্ন সাইট এবং ফোরামের কল্যাণে স্মার্ট ফোন রুট করা এখন বলা চলে অনেক সহজ এবং ঝুঁকির পরিমানও ঠিক আগের মত নেই।

ঝুঁকির কথা বললাম কেননা, আপনি যদি রুট করার সময় সফল না হন তবে আপনার স্মার্ট ফোনটি ব্রিক অবস্থায় চলে যেতে পারে। আবার, আপনি সফল ভাবে রুটিং প্রোসেস সম্পন্ন করলেও আপনার স্মার্ট ফোনের সাথে দেয়া ওয়ারেন্টির অফারটা শেষ হয়ে যাবে যদিও এখন আপনি চাইলেই আপনার রুটেড অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসটি আন-রুট করতে পারবেন এবং ওয়ারেন্টি ফিরে পাবেন। এখন বলি যে, একটি অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম চালিত স্মার্ট ফোন স্পিড আপ এর সাথে এই রুটিং এর কী সম্পর্ক।

 ওভার ক্লক :- আপনি আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসটি রুট করার পর ডিভাইসের প্রসেসরটি ওভারক্লক করতে পারবেন এবং একটি ওভার ক্লকড প্রসেসর স্বাভাবিক ভাবেই স্বাভাবিক অবস্থায় থাকা প্রসেসরের তুলনায় বেশি পরিমান কাজ করতে সক্ষম হবে। তাই, প্রসেসর ওভার ক্লক করার মাধ্যমে আপনি এভাবেই আপনার অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনটির গতি বৃদ্ধি করতে পারবেন।

 কাস্টম রমের ব্যবহার :- আপনি আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসটি রুট করার পর ডিভাইসটিতে কাস্টম রম ব্যবহারের সুবিধা পাবেন। যদিও, কাস্টম রম ব্যবহার কিছুটা অ্যাডভান্স লেভেলের পর্যায়ে পরে এবং ঝুঁকি পূর্ন তবুও কাস্টম রম ব্যবহার করে স্মার্ট ফোনের গতি বৃদ্ধি করা যায় খুব সহজেই।

কেননা, কাস্টম রমে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপলিকেশন থাকে না বললেই চলে এবং এর ফলে কোন অ্যাপলিকেশন অহেতুক স্মার্ট ফোনের র‍্যামের রিসোর্স ব্যবহার করেনা এবং এছাড়াও কাস্টম রম ব্যবহারের ফলে স্মার্ট ফোনের কিছু বাগ ফিক্স হয়ে যায়। তবে ঝুঁকির কথা বললাম এজন্যেই যে মাঝে মাঝে কাস্টম রম গুলো স্ট্যাবল হয় না এবং এর ফলে নানা রকম সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে।

 অপ্রোয়োজনীয় System Application মুছে ফেলুন :- প্রতিটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্ট ফোনের স্টক রমে দেখা যায় নানা রকম অ্যাপলিকেশন প্রি-ইন্সটলড করা থাকে যা অনেকেই ব্যবহার করেন না। রুট করার ফলে আপনি যেহেতু আপনার ডিভাইসের অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ক্ষমতা হাতে পাচ্ছেন সে কারনে আপনি চাইলে সিস্টেমে ইন্সটল্ড থাকা অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো মুছে ফেলতে পারবেন ফলে আপনার স্মার্ট ফোনটি কিছুটা হলেও হবে স্মুথ এবং দ্রুত গতির।



সতর্কতা :- সিস্টেম অ্যাপ মুছে ফেলার ক্ষেত্রে অবশ্যই অ্যাপ গুলোর ব্যাক-আপ নিয়ে রাখবেন। এক্ষেত্রে চমৎকার একটি অ্যাপলিকেশন হচ্ছে " Titanium Backup " অ্যাপটি।

বিঃদ্রঃ এখান থেকে Application গুলি Download করতে Application গুলোর উপর Click করুন।

আমাদের Facebook পেজে Like দিলে এরকম পোস্ট পাবেন......Like দিতে এখানে Click করুন

আপনার যেকোনো সমস্যায় Facebook পেজে যোগাযোগ করুন।

Automatic Call Recorder Pro একদম ফ্রীতে নিয়ে নিন

কেমন আছেন সবাই? আশা করি ভালো আছেন। আজ আপনাদের জন্য এমন একটি সফটওয়্যার নিয়ে আসলাম, যেটি সবার ভালো লাগবে ইনশাআল্লাহ্‌।

আপনাদের অনেকেরই হয়তো মোবাইলের কথা রেকর্ড করার প্রয়োজন পড়ে, কিন্তু এটি কথা বলার পড়ে মনে পরে । তাই আপনাদের জন্য নিয়ে এলাম Automatic Call Recorder Pro”. 

এটির ফ্রী Version  আছে, আমি আপনাদের জন্য Pro Version নিয়ে এলাম। এটি Play Store থেকে কিনতে গেলে আপনাকে গুনতে হবে $ 7.10 ডলার। কিন্তু আমি আপনাদের এটি একদম ফ্রীতে দিচ্ছি.........





অ্যাপটির Feature :

  • এটি অটোমেটিক রেকর্ড করে
  • কোনো প্রকার শব্দ ছাড়াই রেকর্ড করে
  • আপনি 3GP, AMR, WAV এই ৩ টি ফরম্যাটে রেকর্ড Save করতে পারবেন
  • এর Inbox এ ২০০ টি পর্যন্ত রেকর্ড জমা থাকবে
  • কল করার পর আপনাকে Notification দেবে
  • রেকর্ড করা কল Save করে রাখা যায়


অ্যাপটির তথ্য :
Version: 3.71
Size:  1.92 MB
Required Version:  Android 2.1 & Up.
Last Updated:  24 November 2014.
Google Play Price:  7.10$ Only

Download Link :

                             1.  Direct Link

                             2.  Google Play Store Link

ব্যাবহার :

এটি ব্যাবহারে তেমন কোনো ঝামেলা নেই। শুধু Install দিন আর Setting এ গিয়ে Record Call অন করে দিন ।

ব্যাস কাজ শেষ । এবার মজা লুটুন ।

আজকের মত এখানেই শেষ করছি। সবাই ভালো থাকবেন।
।। ।। ।। * * ধন্যবাদ * * ।। ।। ।।

নতুন অ্যান্ড্রয়েড কেনার পর যে জিনিসগুলো একান্তই জানা প্রয়োজন


অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে আমরা অনেকেই স্বপ্ন মনে করি। সারা বিশ্ব প্রযুক্তিতে দ্রুত
এগিয়ে চলার অন্যতম কারন এই এন্ড্রোয়েড স্মার্টফোন। আপনি যাহা  চান তাহাই আছে এতে। জিপিএস-এর মাধ্যমে নিজের অবস্থান দেখতে পারবেন , ছবি তুলে ফেসবুকে শেয়ার করতে পারবেন, বিভিন্ন মজার অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে পারবেন কিংবা হাই-ডেফিনিশন এর গেম খেলতে পারবেন। এ সবই সম্ভব এই যাদুর অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে। কিন্তু নতুন অ্যান্ড্রয়েড ফোন কেনার পর অনেকেই বুঝতে পারেন না কীভাবে কী করবেন।
তাই আপনি যদি নতুন অ্যান্ড্রয়েড ফোন কিনে থাকেন, তাহলে এই পোস্টটি আপনারই জন্য । 
এখানে আমি অ্যান্ড্রয়েড ফোন কেনার পর যে বিষয় সম্পর্কে জানাব্‌,,,,, তা আপনার জানা একান্তই প্রয়োজন । 

গুগল অ্যাকাউন্ট :-
প্রতিটি অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের প্রধান কাজ হচ্ছে গুগল অ্যাকাউন্ট যোগ করা। আপনি গুগল অ্যাকাউন্ট যোগ করতে বাধ্য নন। তবে গুগল অ্যাকাউন্ট সেট আপ না করলে আপনি অ্যান্ড্রয়েডের আসল অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হবেন। তাই আপনার জিমেইল/গুগল অ্যাকাউন্টটি প্রথমেই যোগ করে নিতে ভুলবেন না। গুগল সার্ভারে ব্যাকআপ প্রতিটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনের বেসিক সেটিংসগুলো বিনামূল্যেই গুগলের সার্ভারে ব্যাকআপ রাখার অপশন রয়েছে। এর মাধ্যমে সাধারণ সেটিংসগুলো আপনার গুগল অ্যাকাউন্টে সিংক্রোনাইজ হয়ে যাবে। এই সুবিধাটি ফ্যাক্টরি রিসেট দিলে কাজে আসে। আর গুগল অ্যাকাউন্ট যোগ করার কাজ সম্পন্ন হলে পরের স্ক্রিনেই এই চেকবক্সটি পাবেন। এটি টিক দেয়ায় আপনার জন্য সুবিধাজনক হবে।

অটোমেটিক আপডেট  :-
অ্যান্ড্রয়েড কেনার কিছুক্ষনের মধ্যে নিশ্চয়ই অনেক অ্যাপ্লিকেশন install করেছেন? কিন্তু ইন্সটল করার সময় আপনি কি “Allow automatic updating” চেকবক্সটিতে টিক দিয়েছেন্নিয়াপ্নি যদি এই চেকবক্সটিতে টিক দেন তাহলে কোনো অ্যাপ্লিকেশন  আপডেট পাওয়ামাত্রই তা আপডেট হয়ে যাবে। ফলে আপনি সবসময়ই থাকবে সর্বশেষ সংস্করণে। ইন্টারনেট নিয়ে অসুবিধা না থাকলে এই সুবিধা চালু করে রাখাই শ্রেয়।
গুগল ম্যাপস  :-

অফলাইন জিপিএস পরীক্ষা করার জন্যও মনে হয় এতক্ষণে গুগল ম্যাপস চালু করেছেন । তবে কেমন হবে যদি আপনি গুগল ম্যাপস দেখে কোনো বন্ধুর বাসা কিংবা রেস্তোরাঁ খুঁজতে বের হন কিন্তু মাঝ পথে ইন্টারনেট সংযোগ চলে যায়? খুবই খারাপ একটা ব্যাপার। এমন যদি হয় রেস্তোরাঁটি কোনো বন- জঙ্গলে অবস্থিত ! আপনার এমন পরিস্থিতির কথা কিন্তু
আগে থেকেই ভেবে রেখেছে গুগল। আর তাই তাদের ম্যাপস অ্যাপ্লিকেশনে রয়েছে অফলাইন সুবিধা। এ জন্য প্রথম ওয়াই-ফাই-এ সংযুক্ত হোন এবং যেই এলাকায় কিছু খুঁজছেন সেই এলাকার ম্যাপ (একটু উপর থেকে) স্ক্রিনে আনুন। তারপর নিচের ডানদিকের মেনুতে ট্যাপ করে Make available offline লেখায় ক্লিক করলে গুগল স্ক্রিনে প্রদর্শিত এলাকার বিস্তারিত ডেটা ডাউনলোড করে রাখবে। ফলে খোঁজাখুজির সময় লোডিং বা ইন্টারনেট ছাড়াই স্ট্রিট লেভেল ম্যাপ দেখতে পাবেন গুগল ম্যাপসে।সোশাল নেটওয়ার্কিং অ্যাকাউন্ট সেটিংস থেকে আপনি আরও বিভিন্ন সোশাল নেটওয়ার্কিং-এর অ্যাকাউন্ট যোগ করতে পারবেন।লাভ? দুই ধরনের। প্রথমটি হচ্ছে এসব নেটওয়ার্ক থেকে পুশ নোটিফিকেশন পেতে পারবেন। যেমন টুইটারে কেউ মেনশন করলে বা ফেসবুকে কেউ মেসেজ পাঠালে স্ট্যাটাসবারেই সেটা দেখাবে। অবশ্য আপনি চাইলে এগুলো বন্ধও করে রাখতে পারবেন।
শেয়ার করুন সবখানে  :-
অ্যাকাউন্ট যোগ করার ফলে আপনি যে কোনো ছবি বা ভিডিও গ্যালারি থেকেই সরাসরি সেই অ্যাকাউন্টে শেয়ার করতে পারবেন। দ্রুত ছবি শেয়ার করার ক্ষেত্রে এটি বেশ কাজের। তবে এভাবে অ্যাকাউন্ট যোগ না করেও যেই অ্যাকাউন্ট যোগ করবেন তাদের অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করলেও হবে। যেমন ইন্সট্যাগ্রাম ইন্সটল করলে এই শেয়ার মেনুতে ইন্সট্যাগ্রামও চলে আসবে। 

উইজেট ও শর্টকাট :-
উইজেটকে সহজভাবে বলা যায় মূল অ্যাপ্লিকেশনের ছোট সংস্করণ যেটি আপনার হোমস্ক্রিনে থাকে ও বিভিন্ন বিষয়ে লাইভ আপডেট দিয়ে থাকে। যেমন আবহাওয়ার উইজেট দেবে আবহাওয়া সংক্রান্ত লাইভ আপডেট। ঘড়ির উইজেট দেবে সময় সংক্রান্ত খবর। সিস্টেম অ্যাপ্লিকেশনের উইজেট দেবে হার্ডওয়্যারের বিভিন্ন তথ্য ইত্যাদি। এসব উইজেট বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মূল অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটলের সঙ্গেই চলে আসে। আপনি অ্যান্ড্রয়েড ২.৩ জিঞ্জারব্রেডে home screen এ লম্বা সময় প্রেস করে ও অ্যান্ড্রয়েড ৪ আইসক্রিম স্যান্ডউইচে অ্যাপ্লিকেশন ড্রয়ারের উইজেট অপশন থেকে আপনার ডিভাইসে সহজলভ্য উইজেটগুলো হোমস্ক্রিনে যোগ করতে পারবেন। অন্যদিকে অ্যাপ্লিকেশন শর্টকাট হচ্ছে অনেকটা কম্পিউটারের ডেস্কটপ আইকনের মতো। এর মাধ্যমে আপনি হোমস্ক্রিন থেকেই মূল অ্যাপ্লিকেশনে যেতে পারবেন। সেটিংস কন্ট্রোলার উইজেট বেশিরভাগ অ্যান্ড্রয়েডেই উপরের ছবির মতো একটি উইজেট থাকে যেটি হোমস্ক্রিন থেকেই আপনাকে ডিভাইসের বিভিন্ন সেন্সর ও নেটওয়ার্ক কানেক্টিভিটি অন/অফ করার সুবিধা দিয়ে থাকে। এটি অনেক কাজে আসে ও সময় বাঁচায়। এই উইজেটটি খুঁজে বের করুন ও হোমস্ক্রিনে যোগ করুন।

শর্টকাট রিমুভ :-
কোনো অ্যাপ্লিকেশন শর্টকাট মুছে ফেলতে চাচ্ছেন কিন্তু উপায় পাচ্ছেন না? সেই আইকনটির উপর প্রেস করে কিছুক্ষন ধরে রাখুন, দেখবেন স্ক্রিনের উপরে বা নিচে Remove লেখা উঠেছে। আইকনটি সেখানে ড্র্যাগ করে নিলেই সেটি স্ক্রিন থেকে বিদায় নেবে। হোম ফোল্ডার হোমস্ক্রিনে অতিরিক্ত শর্টকাট আইকন হয়েছে? আপনি আপনার ইচ্ছা মত এক জাতীয় Apps গুলোর আইকন একটি ফোল্ডারে ঢুকিয়ে রাখতে পারেন। এ জন্য একটি আইকন অপর আরেকটি আইকনের উপর ড্র্যাগ করে ছেড়ে দিন। নতুন ফোল্ডার তৈরির ডায়ালগ বক্স আসবে। এরপর থেকে যে কোনো আইকন ঐ ফোল্ডারের উপর ছেড়ে দিলে ফোল্ডারেই ঢুকে যাবে সেই অ্যাপ্লিকেশনের শর্টকাট আইকন। 
অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করা  :-
আমরা সবাই কমবেশি Google Play ছাড়া অন্যত্র থেকে অ্যাপ্লিকেশন বা গেমস ডাউনলোড করে রাখি। যদিও এটি পুরোপুরি নিরাপদ না (দেখুনঃ ঝুঁকিতে রয়েছে এক্সিনস কার্নেলের স্যামসাং ডিভাইস)। 
Google Play Store ব্যতীত অন্য স্থান থেকে ডাউনলোড করা অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করতে হলে সেটিংস থেকে অবশ্যই Unknown Sources চেকবক্সটিতে টিক দিতে হবে। নইলে অ্যান্ড্রয়েডের সিকিউরিটি পলিসি আপনাকে কোনোভাবেই অ্যাপ্লিকেশনটি ইন্সটল করতে দেবে না। এই অপশনটি সেটিংসের সিকিউরিটি মেনুতে খুঁজে পাবেন।
ভয়েস অ্যাসিসট্যান্স  :-

নতুন অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণগুলোয় Google Now নামের একটি সুবিধা রয়েছে যেটি অনেকটা আইফোনের সিরির মতো। এটি এক প্রকার ভয়েস অ্যাসিসট্যান্ট। এর মাধ্যমে আপনি কাউকে Call করা, SMS পাঠানো, Google এ খোঁজ করা, Google Maps এ ডিরেকশন খোঁজ করা ইত্যাদি ডিভাইসের প্রায় সব কাজ নিমিষেই করতে পারবেন কেবল ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে। তবে গুগল নাও-এর ভয়েস রিকগনিশন সাধারণত পারফেক্ট উচ্চারণের ইংরেজি ছাড়া বুঝতে পারে না। কাজেই, আপনার কথা না বুঝলে রাগ করার কিছু নেই!
তবে গুগল ম্যাপসে খোঁজাখুজির ক্ষেত্রে Google Now বাংলাদেশে কাজ নাও করতে পারে।
মাল্টিটাস্কিং  :-
উইন্ডোজে নিশ্চয়ই Alt+Tab প্রচুর চাপা হয়। অ্যান্ড্রয়েডে সেটা না পেলেও একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ্লিকেশন চালু রাখার সুবিধা কিন্তু রয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড ৪ বা আইসক্রিম স্যান্ডউইচ ও এর পরের সংস্করণগুলোয় যে কোনো চলমান অ্যাপ্লিকেশন থেকে হোম আইকনে প্রেস করার মাধ্যমে অ্যাপ্লিকেশনটি বন্ধ না করেও হোমস্ক্রিনে যেতে পারবেন। আর দু’টি অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে সুইচ করতে দু’টি বক্সের ছবি সম্বলিত আইকনে প্রেস করলেই সাম্প্রতিক ও ব্যাকগ্রাউন্ডে চলমান অ্যাপ্লিকেশনগুলোর তালিকা দেখতে পাবেন।নোটিফিকেশন পুল-ডাউন মেনু  :-
অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের উপরের দিক থেকে নিচের দিকে সোয়াইপ করলে নেমে আসবে নোটিফিকেশন পুল-ডাউন মেনু। এখানে আপনি বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের নোটিফিকেশন, Missed Call, Unread SMS ইত্যাদি সব দেখতে পাবেন। আইসক্রিম স্যান্ডউইচ ব্যবহারকারীরা এখান থেকে সরাসরি সেটিংসেও যেতে পারবেন। আর কোনো নোটিফিকেশন মুছে ফেলতে চাইলে তা টাচ করে ডান দিকে বা বামদিকে সোয়াইপ করলেই হবে।
প্লে স্টোর/গুগল অ্যাকাউন্ট  :-

প্লে স্টোর/গুগল অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারছেন না? অনেকেই অভিযোগ করছেন তারা গুগল অ্যাকাউন্ট যোগ করতে পারছেন না বা প্লে স্টোরে ঢুকতে পারছেন না। বলা বাহুল্য, এই সমস্যাটি বাংলাদেশ সরকারের ইউটিউব ব্লক করে দেয়ারই ফল। গুগলের বিভিন্ন সেবা ইউটিউবের আইপি ব্যবহার করে বলেই এই সমস্যা পোহাতে হচ্ছে আমাদের। আপনি দু’ভাবে প্লে স্টোরে ঢুকতে বা গুগল অ্যাকাউন্ট যোগ করতে পারেন। যদি মোবাইলে গ্রামীণফোন বা অন্য কোনো সিমের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন তাহলে সুপারফ্রিভিপিএন - এর মাধ্যমে অথবা রুট করা ডিভাইসে হটস্পটশিল্ডm ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপনার ডিভাইসের কোনো সমস্যা নয়। কাজেই, নতুন অ্যান্ড্রয়েড নষ্ট এমন মনে করার কোনো কারণ নেই।
শেষ কথা 
আপনার অ্যান্ড্রয়েড হচ্ছে আপনার স্মার্টফোন। এখানে প্রতিনিয়তই নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করতে পারবেন। নতুন অ্যান্ড্রয়েড হলে তো কথাই নেই। আর অ্যান্ড্রয়েডের আওতা এতোই বিশাল যে আপনি জানতে চাইলে এর জানার কোনো শেষ নেই। কাস্টম রম, কার্নেল, রুট ইত্যাদি অনেককিছু জড়িয়ে আছে অ্যান্ড্রয়েডের জগতকে ঘিরে।

তবে নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য রুট কী এবং এর সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে পড়ের POST এ লেখা হবে ।


আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি।। সবাই ভালো থাকবেন।।


কারো কোনো প্রশ্ন থাকলে করতে পারেন Facebook এ আমি .

Contact Form

Name

Email *

Message *